Friday, May 24, 2013

কুর’আনে প্রযুক্তি :: ‘বিগ ব্যাং’ কতটুকু সঙ্গতিপূর্ন?



বিজ্ঞানীগণ ধারনা করেন প্রায় ২০,০০০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ ব্যাপী আমাদের এ মহাবিশ্বটি মহাশূন্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। তারাঁ শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বে প্রায় ১০,০০০ কোটি গ্যালাক্সির অবস্থান নিরুপন করতে সমর্থ হয়েছেন। প্রায় প্রতিটি গ্যালাক্সিতে আবার ৪০,০০০ কোটি নক্ষত্রের আনাগোনা রয়েছে। এতেই শুধু শেষ নয় প্রতি নক্ষত্রের সাথে আছে তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু ও ধূমকেতুসহ অগুনিত জানা-অজানা মহাজাগতিক বস্তু ও আলোর-বিকিরনের সমাহার যাকে আমরা নামকরন করেছি- “নক্ষত্রের নিজস্ব সৌর পরিবার”।বর্তমানে সবচাইতে আলোচিত আবিষ্কার এই তত্বটি সর্বমহলে আলোচিত ও সমালোচিত। বিশেষ করে আমেরিকানদের  প্রযুক্তি আড্ডার কলেবরে এখনো তুমুল ঝড় উঠে পক্ষে-বিপক্ষে।
আমাদের এই সমস্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদিতে একটা অতি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বিন্দু ছিল তারপর হয় ‘বিশাল বিস্ফোরন’ ইংরেজীতে যা ‘Big Bang’ তত্ব নামে অতি সুপরিচিত। এই  প্রচন্ড বিস্ফোরনের পর চন্দ্র, সূর্য ,পৃথিবী এবং হাজার কোটি গ্যালাক্রী, নক্ষত্র, ছায়াপথ, নিহারিকা ও অন্যান্য অনাবিষ্কৃত বস্তু ও বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ক্ষুদ্র গ্যালাক্রীর প্রায় ৪০ হাজার কোটি সে সে  মধ্যে আমাদের এই সূর্যটি অতি ক্ষুদ্র সূর্য যার ১১-১৩টি গ্রহ ,উপগ্রহের পরিবার রয়েছে। তথ্যটি নিয়ে গবেষনা শুরু হয়েছে এই 20 শতকের প্রথম দিকে । কিন্তু কুরআনে এই ফর্মূলা প্রকাশিত হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে, কুরআন-কারীম সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশেষ আল্লাহ্ তা‘আলার বার্তা, আল্লাহ্তা‘আলা সন্দেহাতীতভাবে প্রয়োজনীয় প্রায় সর্ব বিষয়েরই র্নিভূল তথ্য এ কুরআনে উল্লেখ করেছেন। অনেকে ধারনা করেন “science”-এর প্রতিটি তথ্যের বিশ্লেষনধর্মী ব্যাখ্যা কুরআনে রয়েছে, আসলে Science or technological তত্বের বর্ননা নয় কুরআন মানবজাতির নিকট প্রতিটি প্রয়োজনীয় তত্বের ‘ signs’ বা সাংকেতিক’ অথবা “ টেলিগ্রাফিক বার্তা” বিভিন্ন আয়াতে প্রকাশিত রয়েছে (বেশিরভাগই অনাবিষ্কৃত)। চারদিকের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান মহাবিশ্ব ও তার সৃষ্টিতত্বের সর্বপ্রথম আগাম সুষ্পষ্ট তথ্য ও মহাগ্রন্থ কুরআন কারীমে উল্লেখ রয়েছে-
সুরা আম্বিয়া ২১নং সুরা , ৩০নং আয়াতে-
اَوَ لَمْ يَرَ الَّذِيْن كَفَرُوْآ اَنَّ السَّموتِ وَالاَرْضِ كَانَتَا رَتْفًا فَفَقْنهُمَا ط
“যারা অবিস্বাস পোষন করে তারা কি দেখেনা যে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী  উভয়ে একাকার ছিল তারপর আমরা স্ববেগে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম...”(অনুবাদ:-ডাঃ জহুরুল হক, আসাম, ভারত)।
অর্থাৎ হাজার কোটি গ্যালাক্রী, নক্ষত্র, ছায়াপথ, নিহারিকা ,গ্রহ,Black whole, White whole, Warm whole , উপগ্রহ, গ্রহাণু ও ধূমকেতুসহ অগুনতি জানা-অজানা মহাজাগতিক বস্তু ও আলোর-বিকিরন, আলো এমনকি সময় পর্যন্ত, অর্থাৎ এই সম্পূর্ন মহাবিশ্বের বস্তু, শক্তি ও সময় সমস্ত কিছুই বর্তমান অবয়ব ও নিজস্ব আকৃতি , গতি এবং কর্মপ্রকৃতি প্রকাশিত কারার পূর্বে একটি ‘বিশেষ পর্যায়ে’ সঙ্কুচিত অবস্থায় পরস্পর মিশ্রিত ছিলো যা এতই ক্ষুদ্র ছিল এককথায় Astor-physics বিজ্ঞানী কুকু বলেন “অচিন্তনীয় ক্ষুদ্র এক অস্তিত্ব”। এরপর আল্লাহ্ ঐ সঙ্কুচিত অতিক্ষুদ্র বিন্দুটিকে সর্বদিকে ছড়িয়ে দেন প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে । যার ফলে বস্তু, শক্তি ও সময় পৃথক হয়ে বর্তমান দৃশ্যযোগ্য রূপ ধারণ করতে থাকে { অর্থাৎ হাজার কোটি গ্যালাক্রী, নক্ষত্র, ছায়াপথ... } এবং সেই সাথে দ্রুত থেকে দ্রুততর সম্প্রসারিত হতে থাকে অর্থাৎ সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এইতো 2011 সালে দুজন মার্কিন মহাকাশ-পদার্থ বিজ্ঞানী প্রমান করেন এই মহাবিশ্বের সম্প্রসারন গতি দ্রুত হতে দ্রুততর হচ্ছে , এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তারাঁ যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেন।
এই তাত্বিক বিষয়ে বিজ্ঞান বিশ্ব অবিরত গবেষণা ,পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ও তথ্য-অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে 20 শতক হতে অনেক বিজ্ঞানী  মহাবিশ্বর ‘Big Bang’-এর বহু অগ্রহনযোগ্য চিত্র বিশ্লেষিত করেছেন কিন্তু বিজ্ঞান-সমাজ নড়ে-চড়ে বসতে বাধ্য হয় যখন ১৯৩৩ সালে বেলজিয়ামের পদার্থ বিজ্ঞানী জর্জ লি মেইতর সর্বপ্রথম বিশ্বের সামনে ‘ Big Bang’ এর গ্রহনযোগ্য ও সুচিন্তিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি প্রকাশ করেন মহাবিশ্বে যাবতীয় সময়,শক্তি ও বস্তুর যে আনাগোনা ও রুপ আমাদের আশেপাশে ও দুরদুরান্তে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নিজিদের অস্তিত্বের প্রমান ব্যক্ত করছে, তার সমস্ত কিছুই একটি মহাসূক্ষ্ম বিন্দুতে আজ থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি বছর পূর্বে অতিসংকোচন অবস্থায় আটকে ছিল। ফলে এক পর্যায়ে অতীব প্রচণ্ড চাপ ও তাপ বর্ধিত হয়ে সঙ্কুচিত শক্তির বিন্দুটি এক পর্যায়ে বিশাল বিস্ফোরন ঘটে এবং মহাবিশ্বের সূচনা হয় এক কথায় বলা যায়- মহাবিস্ফোরন ।
মেইতরের এই তত্বের ঘোর বিরোধীতা করেন যাঁর মধ্যে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ফ্রেড হোয়েল, ২০০১ সালে যিনি মত্যুবরন করেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি Big Bang তত্বের ব্যাখ্যা গ্রহন করেননি।  যাই হোক ১৯৪৬ সালে প্রখ্যাত আমেরিকান বিজ্ঞানী ‘মিঃ গামো’ (গামা রশ্মির আবিষ্কারক) Big Bang ব্যাখ্যার সাথে একাত্নতা প্রকাশ করেন এবং Mathematical Calculation-এর গ্রহনযোগ্য বিশ্লেষনের মাধ্যমে দেখান যে ঐ মহাবিস্ফোরণে বস্তুর তাপমাত্রা , রেডিয়েশন , আলো, ভাইব্রেশন বা ফ্রিকোয়েন্সী এখনও মহাবিশ্বে বিরাজমান করছে। তিনি উল্লেখ করেন -সঠিকভাবে গবেষনা চালাতে সক্ষম হলে তা আবিষ্কৃত হওয়া খুব দুরে নয়।  চলবে...

কুর’আনে প্রযুক্তি :: সম্প্রসারিত মহাবিশ্ব


আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোষ্টটি পড়ার জন্য
তাত্বিকগতভাবে প্রতিভাবান বিজ্ঞানী আইনেষ্টাইন প্রথম“সম্প্রসারিত মহাবিশ্বের” মডেল উপস্থাপনা করেন, সে সময়টা মানুষ মহাবিশ্বের স্থিরতায় বিস্বাসী ছিল, তুখোর বিজ্ঞানী আইনেষ্টাইন তা বিস্বাস করতেননা, তিনি সবার নিকট সম্প্রসারিত মহাবিশ্বের তত্বটা প্রন্তাবিত করেন, যা বেশিরভাগ প্রথাগত বিজ্ঞানীরাই হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। মহাকাশ বিজ্ঞানীগণ শতাব্দীর বিশ দশক পর্যন্ত ধারণ করতেন যে, মহা বিশ্ব স্থির রয়েছে। অর্থাৎ এর কোন শুরুও নেই পরিবর্তন নেই। তাদের কাছে প্রকৃত সত্য তখনো এসে পৌঁছেনি। বিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে রাশিয়ান পর্দাথবিদ Alexander Friedman এবং বেলজিয়ামের মহাবিশ্বতত্ববিদ  George Lemaitre থিওরি দিয়ে বা তত্বগতভাবে গননা করে দেখেন যে এই মহাবিশ্ব অবিরত গতিময় হচ্ছে, অর্থাৎ এর গতি সময়ের সাথে সাথে কমছেনা বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯২৯ সালে পর্যবেক্ষনমূলক তথ্যের মাধ্যমেও এব্যাপারে নিশ্চিত প্রমানিক হয়। আমেরিকান জ্যের্তিবিদ Edwin Hubble টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষন প্রমানের মাধ্যমে আবিষ্কার করেন প্রতিটি নক্ষত্রমন্ডলী আর গ্যালাক্সীগুলো একে অপর হতে দুরে সরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, এ মহাবিশ্বে প্রতিটি অংশই পরস্পর থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। যা আমরা বিখ্যাত বেলুন সুত্রে দেখতে পাচ্ছি (সুত্র: ছবি)। পরে এ আবিষ্কারকে জ্যের্তিবিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার বলে ঘোষনা দেয়া হয়। এই সুচারু observation-এর সময় হাভেল দেখলেন নক্ষত্রগুলো পরস্পর হতে সরে যাচ্ছে ও ক্রমাগত নিষ্প্রভ হয়ে যাচ্ছে, তা পদার্থবিজ্ঞানের সুত্রানুযায়ী নিকটবর্তী কাছের নক্ষত্রগুলো থাকে উজ্জল বেগুনি রঙের কিছু সময়কাল পর্যবেক্ষন পর দেখা যায় তা লালচে রঙ ধারন করেছে এবং আরো বেশ কিছু সময় পর এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাছে অর্থাৎ সেটি দুরে... হারিয়ে যাচ্ছে।  বছরের পর বছর এভাবে গবেষনার পর পরিশেষে আধুনিক বিজ্ঞান আবিস্কার করেছে যে, মহা বিশ্ব ক্রমান্বয়ে সুষমভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে অর্থাৎ গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ২০১১ সালে দুজন মার্কিন মহাকাশ-পদার্থ বিজ্ঞানী আবারো ভিন্ন আঙ্গিকে প্রমান করেন এই মহাবিশ্বের সম্প্রসারন গতি দ্রুত হতে দ্রুততর হচ্ছে , এই যুগান্তকারী তথ্যবহুল বিস্তারিত বিশ্লেষনের জন্য তারাঁ যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কাররে সম্মাননা অর্জন করেন।
এছাড়াও বহু বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীগণ মহা বিশ্বের এই সম্প্রসারন সমর্থনে বহু বাস্তব থিওরি পেশ করেছেন যা অস্বীকার করার মত নয়। অথচ পবিত্র কুরআন তাদের এই আবিষ্কারের বহু পূর্বে নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে এই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ তথ্যটি জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে যা সর্বতোতভাবে গ্রহনযোগ্য। ১৪০০ বছর পূর্বে জ্যের্তিবিদ্যা ছিল অপরিপক্ক,অথচ এই তথ্য কুরআনে উল্লেখ রয়েছে সুরা জারিয়াত-৫১:আয়াত-৪৭-
“আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে মহাকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছি আর আমি নিঃসন্দেহে তা প্রসারিত করছি।।”
সুবিখ্যাত মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞানী Stephen hawking তাঁর বিখ্যাত বই  ’A brief history of time’-এ বলেন-দ্বাদশ শতাব্দিতে এটাই সবচাইতে বড় বৈপ্লবিক আবিষ্কার। পবিত্র কুরআন সম্প্রসারিত বিশ্ববক্ষান্ডের তথ্য এমন একটা সময়ে প্রকাশ করছে যখন মানুষ টেলিস্কোপ বানাতে শেখেনি।
কুরআনের এই বর্ণনাটি সত্যই বিজ্ঞানের চূড়ান্ত রায়ের সাথে হুবহু মিলে যায়। যা শত শত বছর গবেষণার পর বিজ্ঞানীগণ অর্জন করেছেন। তাতে প্রশ্ন দাড়ায় জ্ঞান বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ১৪০০ বছর পূর্বে তা কি রূপে সম্ভব হলো? এই প্রশ্নটি প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষকেই ভাবিত করবে এবং এর সঠিক উত্তর পেতে হলে আল-কুরআন যে স্বয়ং আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত ও সর্বশেষ নবীও রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর নাজিলকৃত এক অলৌকিক জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ তা নির্দ্বিধায় মেনে নিতেই হবে।
আল্লাহ বলেন সুরা ফুসিলাত ৪১:৫৩-
“অচিরেই আমি এদেরকে র্সবত্র আমার নির্দশনসমূহ দেখাবো এবং তাদের নিজেদেরে মধ্যও ৷ তাদের কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এ কুরআন যর্থাথ সত্য এটাই কি যথেষ্ঠ নয় যে, তোমার রব প্রতিটি জিনিষ দেখছেন? ”

কুর’আনে প্রযুক্তি :: দিন ও রাতের গতিশীলতা কেন প্রয়োজন?


কুর’আনে প্রযুক্তি  :: দিন ও রাতের গতিশীলতা কেন প্রয়োজন?

satelight-pic-of-us-at-night-power-outage-northeastআসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :)
দিন ও রাতের পরিবর্তনশীলতা কেন হয়? প্রয়োজনীয়তা কি?
পৃথিবী আপন মেরুর উপর প্রায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার করে ঘুরছে। অন্য কথায় বলতে গেলে তা আপন মেরুর উপর প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার মাইল বেগে চলছে। মনে করুন, যদি এর গতি প্রতি ঘণ্টায় দু’শ মাইল হয়ে যায় (এরূপ হওয়া একেবারেই অসম্ভব) তাহলে আমাদের দিন এবং আমদের রাত্র বর্তমানের অনুপাতে দশগুণ বেশী দীর্ঘ হয়ে যাবে। অত্যধিক রকমের উত্তপ্ত সূর্য প্রতি দিন যাবতীয় লতাগুল্ম জ্বালিয়ে দেবে। এতদসত্ত্বেও সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে সেগুলোকে দীর্ঘ রাতের শীতলতা চিরদিনের জন্য খতম করে দেবে। সূর্য, যা এখন আমাদের জীবনের উৎস তার পৃষ্ঠদেশে বারো হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রয়েছে এবং পৃথিবী থেকে এর দুরত্ব আনুমানিক ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। আর এই দুরত্ব বিস্ময়করভাবে অনবরত স্থিতিশীল। এই ঘটনা আমাদের জন্য সীমাহীন গুরুত্ব রাখে। কেননা যদি এই দূরত্ব হ্রাস পায় যেমন সূর্য অর্ধেক পরিমাণ নিকটবর্তী হয়ে যায়, তাহলে জমির উপর এত উষ্ণতার সৃষ্টি হবে যে, সেই গরমে কাগজ পুড়তে থাকবে, আর যদি বর্তমান দূরত্ব দ্বিগুণ হয়ে যায় তাহলে এমন শীতলতার সৃষ্টি হবে যে, তাতে জীবনের কোন অস্তিত্বই থাকবে না। এই অবস্থা তখন সৃষ্টি হবে যখন বর্তমান সূর্যের জায়গায় অন্য কোন অসাধারণ নক্ষত্র এসে পড়বে-এমন বৃহৎ নক্ষত্র, যার উষ্ণতা আমাদের সূর্যের চাইতে দশ হাজার গুণ বেশী। যদি ঐ নক্ষত্র সূর্যের জায়গায় হত তাহলে তা পৃথিবীকে নির্ঘাত আগুনের eunight2_pvচুল্লিতে পরিণত করত। আল্লাহ তা’আলা এ সর্ম্পকে বলনে:
010.006 إِنَّ فِي اخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ
Al-Qur'an, 010.006 (Yunus [Jonah])
“দিন ও রাত পরিবর্তনে এবং আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু সৃষ্টি করছেনে তাতে ভয়কারী সম্প্রদায়রে জন্য নিদর্শন রয়েছে (সূরা ইউনুস ১০ : ৬)”
পৃথিবী ২৩ ডিগ্রি কোণাকারে শূন্যে ঝুঁকে আছে। এই ঝুঁকে থাকাটাই আমাদেরকে ঋতুর অধিকারী করেছে। এরই ফলশ্রতিতে জমির বেশীর ভাগ অংশ আবাদের যোগ্য হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন ধরনের লতাগুল্ম এবং ফলমূল উৎপাদিত হচ্ছে। পৃথিবী যদি এভাবে ঝুঁকে না থাকত তাহলে দুই মেরুর উপর সর্বদা অন্ধকার ছেয়ে থাকতো। ফলে সমুদ্রের বাষ্পসমূহ উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে পরিভ্রমণ করত এবং জমি হয় তুষার আবৃত থাকত, নয় মরুভূমিতে পরিণত হত। এ ছাড়াও আরো অনেক চিহ্নাদি ফুটে উঠত যার ফলশ্র“তিতে ঝোঁকবিহীন পৃথিবীর উপর জীবনের অস্তিত্ব অসম্ভব হয়ে উঠত। এটা কত অবিশ্বাস্য কথা যে, জড় বস্তু নিজেই নিজেকে এভাবে এত সুন্দর করে ও যথার্থ আকার সুবিন্যস্ত করে নিয়েছে?
1Nasa_EarthNigh_PTIমহান প্রজ্ঞাময় সমস্ত জাহানের প্রতি পালক আল্লাহ তা’আলা এ পৃথিবীতে মানব সৃষ্টি করে তার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করেছেন। মানব জাতির প্রতি আল্লাহর নিয়ামত অফুরন্ত ও অগণিত। দিন রাতের পরিবর্তন তন্মধ্যে অন্যতম । নির্ধারিত নিয়মে দিনরাত্রির পরিবর্তন হচ্ছে। আর একথা বর্তমান জমানায় সবার কাছে সুস্পষ্ট যে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর ঘোরার কারণেই দিন ও রাতের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বচক্ষে অবলোকন করছি যে সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে একই নিয়মে রাতের পর দিন এবং দিনের পর রাত আসছে। আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে, এই পরিবর্তনে আমাদের কি কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসছে? আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বলেন:
017.012 وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلا
Al-Qur'an, 017.012 (Al-Isra [Isra, The Night Journey, Children of Israel])
Day_night_over_Europe“আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতপর নিষপ্রভ অন্ধকার করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকময় করেছি।“ (সূরা ইসরা ১৭ : ১২)
আধুনিক বিজ্ঞান বর্ণনা করেছে যে, এই দিন রাতের পরিবর্তন যদি না হতো তবে পৃথিবীর এক পৃষ্ঠের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যেত এবং অন্য পৃষ্ঠে ঠান্ডায় মানব জাতি সহ সমস্ত জীবকুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিত।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
028.071 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ أَفَلا تَسْمَعُونَ
028.072 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلا تُبْصِرُونَ
Al-Qur'an, 028.071-072 (Al-Qasas [The Story, Stories])
activeearth_18962
“বলুন তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে কি যে তোমাদেরকে আলোকময় দিন এনে দিবে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না? বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি দিনকে কিয়ামতের দিন পযর্ন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য আছে কি যে তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না?” (সূরা কাসাস ৭১-৭২)
আল্লাহ তা’আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করে তাদের জন্য পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে দিয়েছেন। যথোপযুক্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করেছেন, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করেছেন যা দিয়ে ক্ষুধা ও পিপাসা নিবারণ করতে পারে। পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী হেলে দুলে না যায়, সেখানে আর ব্যবস্থা করেছেন নদ নদী, গাছ পালা সহ প্রত্যেক জিনিসের সুসামঞ্জস্যতা।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
040.064 اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
Al-Qur'an, 040.064 (Al-Ghafir [The Forgiver [God]])
তিনিই মহান আল্লাহ যিনি পৃথিবীকে আবাস যোগ্য করেছেন (সূরা গাফের৤
আল্লাহ আমাদের জ্ঞান ও সুবুদ্ধি বাড়িয়ে শান্তির পথে রাখুন।আমিন।

কুর’আনে প্রযুক্তি :: মাধ্যাকর্ষণ শক্তির রহস্যটা কি?


আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।

কুর’আনে প্রযুক্তি :: মাধ্যাকর্ষণ শক্তির রহস্যটা কি?

ঐতিহাসিক পটভূমি-
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি রয়েছে সম্পর্কে কমবেশি আমরা সকলে অবগত। যা স্কুলে গৎবাধাঁ একটা গল্পের মতো – নিউটন বাবাজী কোন এক কারনে আপেল গাছের নিচে বসে ধ্যান করছিলেন হটাৎ টুপ করে উপর থেকে আপেল ঝড়ে পড়লো, সে সাথে উনি ধ্যান ভঙ্গ  করে ভাবতে বসে গেলেন ফলটি উপরে কেন উঠে গেলনা? নিচে পড়ে গেল ব্যাপারটা কি? সাধারন মানুষ হলে তো সেটা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ করতো না কিন্তু নিউটন বলে কথা, আমাদের মতো উনার মগজ হাটুঁতে না …তো সর্বশেষে উনি যোগ-বিয়োগ করে একটা সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন যে পৃথিবীর একটা নিম্নমুখী বল রয়েছে , পরবর্তীতে সেটা মধ্যাকর্ষন শক্তি নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই জানিনা কি কারনে এমনটি ঘটে উপর থেকে কোন বস্তু ছেড়ে দিলে কেন নিচে নেমে আসে সেটা উপরে যায়না কেন? প্রত্যেকেই জানতে চায় কোন জিনিসে আকর্ষণ সৃষ্টি করে? এই আকর্ষণের কারণ কি? মূল কোথায়?
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-
Geologist- গন একটি গবেষনায় প্রমান করেছেন যে পৃথিবীর অভ্যন্তরে রয়েছে অত্যধিক ভারী  বস্তুতে পরিপূর্ন যেমন নিকেল, লৌহ, হীরা আর অনেক ধরনের যৌগিক ওজনদার বস্তু। গবেষণার মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন যে আকর্ষণ বল অতীব শক্তিশালী হবার অন্যতম কারন হলো পৃথীবির আভ্যন্তরীক বস্তুগুলো ওজন । ওজন  যত ভারী হবে আর্কষন ক্ষমতা ততোধিক শক্তিশালী ও প্রবলতর হবে। তাদের গবেষনালব্ধ ফলাফল আমাদের বলে- আমরা যত মাটির নিচে নামছি ওজন তত বাড়ছে, বর্তমানে অতি কঠিন সব টেকনোলজী আমাদের নাগালে দিন দিন সহজলভ্য ও খোলসা হয়ে আসছে।  সম্প্রতিবিজ্ঞানীগন পৃথিবীর গভীরে (বলা যায় মাঝামাঝি পযার্য়ে ) এক ধরনের ভারী তরল পদার্থ পেয়েছেন যা সেখানে অবিরত পাক খেয়ে স্থান পরিবর্তন করে চলছে।  অভ্যন্তরে তার এই চলাচলটা একটা পথে পরিণত হয়েছে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় Magnetic running root অথবা চুম্বকপথ (মাটির উপরস্থিত হতে প্রায় কয়েক হাজার নিম্নে যার বসবাস) ।

সমস্ত প্রশংসার দাবীদার- সৃষ্টিকরতা যিনি   এঅত্যাশ্চর্য সিষ্টেম সৃষ্টি করেছেন-
আল্লাহপাক এ Magnetic- কে এমন পর্যায়ে ক্ষমতা দিয়েছেন যে আমাদের বায়ুমন্ডলের উপরে Van Aleen Belt (আগে আলোচনা হয়েছে)- কে কয়েক হাজার মাইল দুর হতে কন্ট্রোল করে । অথাৎ মাটির সুগভীর নীচ হতে আকাশের বহু উপরে (পৃথিবীর চারিদিক) অতীব শক্তিশালী এক চুম্বক কক্ষেত্রে সৃষ্টি করে। যেমন ঠিক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রক্ষাকারী ঢালের মতো যা ব্যতীত একজন যোদ্ধা যেমন বর্ম বা ঢাল বা protection shield ব্যতিত অসহায় । ঠিক আমাদের এ পৃথিবী অভ্যন্তরভাগ হতে সৃষ্টি চুম্বক ক্ষেত্রের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল কারন এ protection shield দিয়ে সে মহাশূন্য হতে আসা বিভিন্ন ভয়ঙ্কর ও অচিন্তনীয় যা আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভাবতে পারিনা বা জানিনা এমন আক্রমন প্রতিহত করে চলছে।

হাতি ও  চিপস-
Ozon Layer- কর্ম পদ্বতি কিন্তু আভ্যন্তরীন বলয়েরই এক অনুরুপ  , এর ক্ষমতা আমরা বায়ুমন্ডলের শেষ সীমানায় পর্যন্ত দেখতে পাই (প্রায় 50-100 কিমি পর্যন্ত)। একটা হাতিকে যদি চিপসের উপর হাটতে বলা হয় তাহলে চিপসের যে করুন পরিনতি হবে ঠিক তেমনি Magnetic root অথবা চুম্বকপথ ছাড়া আমাদের অবস্থা হবে আরো শোচনীয় । উদাহরন স্বরুপ বলা যায় আমরা অনেকে সৌর ঝড়ের নাম শুনেছি, আসলে সৌর ঝড়ের প্রভাব কি পৃথিবীর মতো সাধারন কোন ঝড়ের ন্যায় ?….না তা নয় এমনটা ভাবলে ভূল হবে। একটা ছোটখাট সৌর ঝড় যদি আমাদের পৃথিবীর উপর দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বয়ে যায় আমাদের এ সাধের পৃথিবী হবে স্রেফ উনুনের জলন্ত কয়লার মতো। একটা মানুষ তো দুরের কথা ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকবে কিনা Geologist- গন সন্দেহ পোষন করেন।  প্রশ্ন হলো  যে Magnetic root পৃথীবীর অভ্যন্তরে থেকেও আকাশের সুউচ্চ সীমানায় যার চুম্বকের শক্তিশালী এক বলয় কাজ করে যাচ্ছে অদৃশ্য কারো আদেশে? কেউ যেন এই perfect  সিষ্টেমের কলকাঠি নাড়ছে। আর এই হচ্ছে ম্যাগ্নেটিস যা প্রত্যেক বস্ত্তকে টেনে নেয় বা আকর্ষণ করে। তারা আরও বর্ণনা করেছে যে  এই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থাকার কারণেই মানুষ পৃথিবীর উপর চলাফেরা করতে পারছে, বৃষ্টির পানি নিচে মাটিতে আসে, গাছের ফল জমিনে পড়ে, বাতাস পৃথিবীর সাথে লেগে থাকে। শুধু তাই নয় পৃথিবী হতে কোন বস্ত্তর দুরত্ব যতই বাড়তে থাকে ততই তার ওজন কমতে থাকে। আর যদি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ব্যবস্থা মহান স্রষ্টা না করতেন তবে পৃথিবীর সব কিছু মহাশূন্যে হারিয়ে যেত, তা আর পাওয়া যেত না।

কুরআন কি আয়াত নির্দেশিত করছে?-
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
إذا زلزة الأرض زلزالها وأخرجة الأرض أثقالها ( سورة الزلزلة
( 1 )   যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,
( 2 )   যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।
( 3 )   এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?
(সূরা যিলযাল ১-৩)  (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)
এই আয়াত দুইটির ব্যাখ্যায় একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সেমিনারে মুসলিমদের সাথে উপস্থিত হয়েছিলেন আমেরিকার অধিবাসী  John Satiklaz। তিনি বলেন:
পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভারী বোঝা রয়েছে। আর এই বোঝাগুলো অনতিবিলম্বে বেরিয়ে আসবে ও মধ্যাকর্ষন শক্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যখন সেগুলো বের হয়ে আসবে তখন অবস্থা কি হবে? আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলছেন:
وإذا الأرض مدت وألقت ما فيها وتخلت (سورة الإنشقاق
( ৩ )   এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে।
( ৪ )   এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপকরবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে।
(সূরা ইনসিকাক ৩-৪)  (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা,সৌদিআরব)

কুরআনে প্রযুক্তি :: দুধ উৎপাদনের বিস্তারিত


          আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা :) ।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোষ্টটি পড়ার জন্য
দুধ মানুষের জন্য এক অপূর্ব নিয়ামত আধুনিক বিজ্ঞান বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যেমে বর্ণনা করছে যে, দুধে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা জমিনের উপরে অন্য কোন খাদ্যে পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. যে কোন খাদ্য খাওয়ার সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলতেনঃ
اللهم بارك لنا فيما رزقتنا وارزقنا خيرا منه .(ابن ما جة .)
হে আল্লাহ তুমি যে রিযিক আমাদের কে দান করেছ, তাতে তুমি বরকত দাও এবং এর চেয়ে উত্তম রিজিক আমাদেরকে দান কর। (ইবনে মাজা)
আর যখন তিনি দুধ পান করতেন তখন বলতেনঃ
اللهم بارك لنا فيما رزقتنا وزدنا منه . (ابن ما جة )
হে আল্লাহ তুমি যে রিজিক আমাদেরকে দিয়েছো, তাতে তুমি বরকত দাও এবং তা তুমি আমাদেরকে বেশী বেশী দান কর।
এখানে তিনি এই দুধের চেয়ে উত্তমের কামনা করেননি। কারণ মানুষের খাদ্য তালিকায় দুধের চেয়ে উত্তম কোন খাদ্য নেই।
ডা. আলমিযা ইয়াজী বলেন - জীব বিজ্ঞানীগণ পরীক্ষা করেছেন যে, গাভী খাদ্যের মাধ্যমে যে সব প্রোটিন খায় তা হিসেব ও ওজন করেছেন এবং গাভীর থেকে যে দুধ বেরিয়ে আসে সেই দুধের প্রোটিন ও ওজন করে দেখেন যে দুধের থেকে যে প্রোটিন পাওয়া গিয়েছে তার ওজন ঐ সব প্রোটিন যা গাভী তার খাদ্যের মাধ্যমে ভক্ষণ করেছে তার চেয়ে বেশী। তাহলে প্রশ্ন দেখা দেয় যে, দুধের এই অতিরিক্ত প্রোটিন কোথা থেকে আসল।
আধুনিক বিজ্ঞান বর্ণনা করছে যে, প্রাণীর পাকস্থলিতে বেশ কিছু ক্ষুদ্র জীবাণু রয়েছে। সেই সব জীবাণু এমন খাদ্য গ্রহণ করে সেগুলোতে প্রোটিন নেই এবং সে গুলোকে প্রোটিনে রূপান্তরিত করে যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুধে মানব শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের খাদ্য উপাদান রয়েছে। তাই এই দুধ সন্তানের জন্য যেমন উপকারী তেমনি উপকারী যুবক, বৃদ্ধ সহ সকল মানুষের জন্য। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে, এই দুধ কি করে সৃষ্টি হয়? এ সম্পর্কেআল্লাহতা‘আলা বলেন -
وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُسْقِيكُمْ مِمَّا فِي بُطُونِهِ مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِلشَّارِبِينَ (سورة النحل ৬৬)
“নিশ্চয়ই চতুস্পদ প্রাণীর মধ্যেও তোমাদের জন্য শিখবার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই এদের শরীর থেকে তাদের মলমূত্র ও রক্তের মধ্যবর্তী বস্তু থেকে নিঃসৃত দুধ যা পানকারীদের জন্য উপাদেয়।” (সূরা নাহল- ৬৬)
এ আয়াত সম্পর্কে ডা. মুহাম্মাদ গোলাম মুয়ায্যাম বলেন, প্রাণীর মলমূত্র ও রক্তের মধ্যবর্তী অবস্থা থেকে দুধ সৃষ্টি কথাটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য ভিত্তিক, যদিও বিজ্ঞান এ জ্ঞান অর্জন করেছে কুরআন নাজিলের প্রায় ১২০০ বছর পর। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, দুম্বা ইত্যাদি দুধ প্রদান কারী প্রাণী ঘাস ও তৃণলতাদি খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে যা তাদের পরিপাক যন্ত্রে হজম হয়।
খাদ্যের পরিত্যাজ্য বস্তুগুলো মল বা গোবর হিসেবে পরিত্যক্ত হয়। গ্রহণযোগ্য বস্তুগুলো অন্ত্র থেকে রক্তে প্রবেশ করে। রক্ত শরীরের সকল জীবনকে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যাদি সরবরাহ করে এবং কোষ থেকে দৃষিত পদার্থ গ্রহণ করে প্রশ্বাস ও মূত্রের মাধ্যমে করে। সুতরাং পূষ্টিকর বস্তুগুলো রক্তে প্রবাহিত হয়। যে সমস্ত গ্রন্থি (যেমন দুধের বাট, পিটু, হটারী) দুধ সৃষ্টিতে অংশ গ্রহণ করে সেগুলোর জীব কোষসমূহ তাদের প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো রক্তের মাধ্যমেই পেয়ে থাকে। এমনিভাবে দুধের মাখন, চিনি, ভিটামিন, প্রোটিন ইত্যাদি রক্ত দ্বারা সরবরাহ করা হয়। রক্তের এ বস্তুগুলো খাদ্য থেকে আসে, তা থেকে মল ও মূত্র পরিত্যক্ত হয় আর রক্ত দুধের প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করে সেসব গ্রন্থি থেকে চলে যায়।
সুতরাং মল-মুত্র ও রক্তের মধ্যবর্তী অবস্থা থেকেই দুধের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কত সুন্দর করে এবং কত সংক্ষেপে আল্লাহ এ কুদরতের বর্ণনা দিলেন। কুরআনের এ ধরনের আয়াত বৈজ্ঞানিকদেরকে আরও গবেষণার প্রেরণা দেবে। স্মরণ রাখা প্রয়োজন এ বৈজ্ঞানিক তথ্যটি প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে নিরক্ষর নবীর উপর নাজিল করা কুরআনে সর্ব প্রথম উদ্ঘাটিত হয়। এমনিভাবে আল্লাহ মানুষকে বস্তুজগতে বহু বিষয়ের অর্থাৎ বিজ্ঞান সম্বন্ধে ইঙ্গিত করেছেন যা কুরআনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
পরিমার্জনে- শাহরিয়ার আজম

আগুন জ্বালাস না আমার গায়- গান পাউডারের গল্প।


বাঙালী জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত পাউডারের সাথে বসবাস করি। দাঁত ব্রাশ করা, কাপড় ধোয়া, সৌন্দর্য্য চর্চা সব খানেই পাউডারের ছড়াছড়ি। আজকাল আমরা এক নতুন ধরনের পাউডারের নাম শুনি। গান পাউডার্। হরতালের আগের দিন সন্ধ্যায় বিরোধীদল যে দুই চারখান গাড়ী আগুনে পোড়াবে এটা স্বীকৃত একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছ। সরকারের পুক্ষ থেকে দাবী করা হয় নাশকতার কাজে গান পাউডার ব্যবহার করা হয়েছে। পেট্রোল কেরোসিনের চেয়ে কি গান পাউডার ভালো আগুন জ্বালায়? তাহলে যারা চুলায় রান্না করেন তাদের চুলা ধরাতে এক মুঠ গান পাউডার দেয়া হোক।
গান পাউডারের রং কালো। কালো হলেও রসায়ন শাস্ত্রে এই কালো পাউডারের আছে ব্যাপক গুরুত্ব। এটা অল্পতেই বিষ্ফোরিত হয়। প্রোপেলেন্ট হিসেবে এটি প্রধানত ব্যবহৃত হয়। নবম শতকে চীনের বিজ্ঞানীরা গান পাউডার আবিষ্কার করেন।
গন্ধক বা সালফার , কাঠকয়লা এবং সল্ট পিটার এর মিশ্রণ থেকে গান পাউডার তৈরী করা হয়। বিজ্ঞানের ছাত্র যারা তারা অবশ্যই জানো সল্ট পিটার হচ্ছে পটাশিয়াম নাইট্রেট। চীনের আলকেমিস্ট গন উইলো গাছ থেকে কয়লা বানাতেন ।
প্রথমে এই উপাদান গুলো উত্তমরুপে চূর্ণ করা হয়। যে মিশ্রণটা তৈরী হয় তাকে বলা হয় সার্পেনটাইন। তোমাদের কাছে গান পাউডার তৈরীর ফর্মুলা খুব সহজ মনে হলেও এটা কিন্তু আসলে বিপদজনক।
গান পাউডার কিভাবে কাজ করে:
গান পাউডারে থাকে জ্বালানী (কাঠকয়লা), অক্সিডাইজার (সল্টপিটার) এবং সালফার্। চারকোলের কার্বন অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড ও শক্তি উৎপন্ন করে। আগুন জ্বালালে কার্বন বাতাস থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করে। সল্টপিটার অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে। পটাশিয়াম নাইট্রেট, সালফার এবং কার্বন পরষ্পর বিক্রিয়া করে নাইট্রোজেন , কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পটাশিয়াম সালফাইড তৈরী করে। নাইট্রোজেন কে বিষ্ফোরক গ্যাস বলা হয়। ডিনামাইট তৈরীতে নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহৃত হয়।
গান পাউডার ব্যবহার করে বিপুল ধোঁয়া উৎপাদন করা যায়। গান পাউডার আগুনের দহন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। উপাদান তিনটির পরিমান কম বেশী করে ধোঁয়া বা দাহ্য ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে ধোঁকা দিতে গান পাউডারের ধোঁয়া তৈরী করা হত।
গান পাউডারকে নিয়ে বাংলা সিনেমায় সুন্দর একটা গান আছে। সিনেমায় সুশ্রী দেখতে একটা বঙ্গীয় বাস গান পাউডারের উদ্দেশ্যে গান গাইছে, আগুন জ্বালাস না আমার গায়..................

IDM এর যেকোন ভার্সনকে নিজেই হ্যাক করে, ফুল ভার্সন বানিয়ে ব্যবহার করুন আজীবন!!! (IDM এর রেজি: ঝামেলার দিন শেষ)


বিসমিল্লাহীর রহমানির রাহীম আসসালামুআলাইকুম,
মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল থাকুন এই বলে আমার পোষ্ট শুরু করছি।
আজ আমি যে পোষ্টটি করতে যাচ্ছি তা হল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য একটি অন্যতম জরুরী সফটওয়্যার IDM (Internet Download Manager) সম্পর্কি. এটি ব্যবহার করলে সুবিধার কোন শেষ নাই। আর অসুবিধা তো একটা থাকলেই চলে তা হল Serial key না থাকা। তবে অনেকে Crack, Patch প্রভূতি দিয়ে রেজি: এর কাজ চালান। আবার এখন দেখলাম Crack, Patch, সিরিয়াল প্রভূতি ছাড়াও এর ফুল ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমার কথা হল কিভাবে এই IDM কে Crack, Patch, সিরিয়াল প্রভূতি ছাড়াই তৈরী করা হচ্ছে, আর ব্যবহার করা যাচ্ছে আজীবন। আমি সফটওয়্যার সম্পর্কে তেমন জানি না। কিন্তু খুজতে থাকলাম রহস্য। অবশেষ পেয়ে গেলাম। কিভাবে এটিকে HACK করে ফুল ভার্সন তৈরী করা যায়।
IDM কে HACK করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন যারা তাদের জন্য মূল কথা লেখা শুরু করলাম।
==  প্রথমেই বলছি এই কাজটি কিন্তু খুবই সহজ। বলতে গেলে পানির মতই সহজ। তবে শর্ত হল আপনাকে মনযোগ দিয়ে লেখাটি পড়তে হবে এবং ধৈর্য্য সহকারে ধাপে ধাপে কাজগুলো করতে হবে।
প্রয়োজনীয় জিনিসাদি:
১। IDM এর যেকোন যেকোন একটি ভার্সন পিসিতে সেটআপ করা থাকেত হবে। যদি না থাকে তাহলে এখানে গিয়ে ডাউনলোড করে সেটআপ করে নিন।
২। Notepad++ পিসিতে সেটআপ করা থাকতে হবে। যদি না থাকে তাহলে এখানে গিয়ে একটি ভার্সন ডাউনলোড করে সেটআপ করে নিন।
কাজের ধাপ:
১। IDM পিসিতে সেটআপ করা থাকলে বা বর্তমানে রান (চলমান) থাকলে এখন Exit করে নিন। বুঝলেন না? আরোও পরিষ্কার করে বলি- আপনার ডেক্সটপের সিষ্টেম ট্রে অর্থ্যাৎ ডেক্সটপের নিচে ডানদিকের কোণায় দেখবন IDM এর একটি আইকন আছে। এই আইকনটিতে রাইট বাটন ক্লিক করে এখন Exit এ ক্লিক করুন।
২। Notepad++ সেটআপ করেছিলেনতো? যদি না করে থাকেন, তাহলে সেটআপ করে নিন।
৩। এখন আপনার পিসির Run এ যান এবং হুবহু C:\WINDOWS\system32\drivers\etc লিখে এন্টার চাপুন। দেখবেন একটি উইন্ডো ওপেন হয়েছে।
৪। এখানে দেখবেন প্রথমেই একটি ফাইল আছে যার নাম hosts.
৫। hosts নামক এই ফাইলটিতে মাউজের রাইট বাটন ক্লিক করে Edit with Notepad++ এ ক্লিক করুন। দেখবন এডিটর ওপেন হয়েছে।
৬। এখন এই এডিটর উইন্ডোতে যাকিছু লেখা আছে সব লেখাকে ব্লক করে ডিলিট করে দিন। অর্থাৎ কোন লেখাই যেন এডিটরে না থাকে।
৭। এখন নিচের লেখাগুলি হুবহু Copy করে নিয়ে Paste করে দিন-
# Copyright (c) 1993-2009 Microsoft Corp.
# # This is a sample HOSTS file used by Microsoft TCP/IP for Windows.
# # This file contains the mappings of IP addresses to host names. Each
# entry should be kept on an individual line. The IP address should
# be placed in the first column followed by the corresponding host name.
# The IP address and the host name should be separated by at least one
# space.
#
# Additionally, comments (such as these) may be inserted on individual
# lines or following the machine name denoted by a '#' symbol.
#
# For example:
#
# 102.54.94.97 rhino.acme.com
# source server
# 38.25.63.10 x.acme.com
# x client host
# localhost name resolution is handled within DNS itself.
# 127.0.0.1 localhost
# ::1 localhost
127.0.0.1 activate.adobe.com
127.0.0.1 practivate.adobe.com
127.0.0.1 tonec.com
127.0.0.1 registeridm.com
127.0.0.1 secure.registeridm.com
127.0.0.1 internetdownloadmanager.com
127.0.0.1 secure.internetdownloadmanager.com
127.0.0.1 mirror.internetdownloadmanager.com
127.0.0.1 mirror2.internetdownloadmanager.com
৮। এখন Ctrl + S চেপে File টিকে Save করে Close করে দিন।
৯। পিসিকে Restart দিন। দেখুন ইনশআল্লাহ আপনার Idm আর আজীবনে জন্য রেজি: চাইবে না।
তার পরও যদি ব্যার্থ হন তাহলে আপনার জন্য আমি একটি হ্যাক করা  IDM 7.1 এর ফ্রেশ একটি কপি Dropbox এ আপলোড করে রেখেছি। এটি আমি আজ এক বছর যাবত ব্যবহার করিছ কোন দিন রেজি: চায় নাই আর ইনশআল্লাহ আশা করি আজীবনেও চাইবে না। ডাউনলোড করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।